নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এবং বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম আনুর নির্বাচনি পথসভায় এক যুবদল নেতার বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্যে ওই নেতা বলেছেন, ‘১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করবো আমরা পাকিস্তান।’
বিতর্কিত ওই নেতার নাম আব্দুল মালেক। তিনি সিংড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব। গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার শেরকোল এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় তিনি এই বক্তব্য দেন। এ সময় মঞ্চে ধানের শীষের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম আনু নিজেও উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় বক্তব্যে মালেক বলেন, সিংড়া থানার শেরকোল ইউনিয়নের দুইটি ওয়ার্ডকে পাকিস্তান বলা হয়। একটি হচ্ছে ৬ নম্বর ওয়ার্ড আরেকটি হচ্ছে ৯ নম্বর ওয়ার্ড। আমাদের আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান সাহেব যাকে বিশ্বাস করেছেন, আস্থা রেখেছেন তাকেই মনোনয়ন দিয়েছেন। আমাদের চিহ্ন, আমি বিএনপি করি। এর প্রমাণ ধানের শীষ। সুতরাং আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষে ভোট দিয়ে প্রমাণ করে দিব আমরা পাকিস্তান।’
বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয় এবং সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা ও সিংড়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক দাবি করেন, বক্তব্য দেওয়ার সময়ে ভুলক্রমে ওই শব্দটি মুখ দিয়ে বের হয়ে গেছে।
এদিকে এমন মন্তব্যের বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) নাটোর জেলার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, বক্তব্যটি আমিও শুনেছি। তিনি আসলে কী কারণে বা কোন প্রেক্ষাপটে এমন কথা বলেছেন, তার ব্যাখ্যা চাওয়া উচিত। অন্যরা তাদের এলাকাকে পাকিস্তান বলে তিরস্কার করে- সেটার জবাবে তিনি এমনটি বলেছেন, নাকি পাকিস্তানি ভাবাদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বলেছেন, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তবে যদি পাকিস্তানি মতাদর্শ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে এটি বলা হয়, তবে তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিতর্কিত ওই বক্তব্যের বিষয়ে নাটোর জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তিনি কোন প্রেক্ষাপটে এমন বক্তব্য দিয়েছেন, তা আমরা পর্যালোচনা করছি। যদি দলের নীতিবহির্ভূত বা বিতর্কিত কিছু প্রমাণিত হয়, তবে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টিকে/