কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের রাবার বুলেটে এক ভারতীয় চোরাকারবারি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) ভোররাতে উপজেলার গোরকমন্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব পিলারের পাশে জিরো লাইন থেকে ২শ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) নামক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এরপর খবর পেয়ে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধীন গোরকমন্ডল বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তে টহল জোরদার করে।
সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে ঘণ্টাব্যপী পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে গোরকমন্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের পক্ষে ভারতীয় ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন।
পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে গুলিতে নিহত ওই ভারতীয় চোরাকারবারির লাশ নিয়ে যায় বিএসএফ।
১৫-বিজিবি লালমনিরহাট জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম জাহানুর আলম, আনুমানিক বয়স (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে বলে জানা গেছে।
ফুলবাড়ী সীমান্তের স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাতে একদল ভারতীয় চোরাকারবারি ওই সীমান্ত দিয়ে চোরাই মালের পোটলা নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে। এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে বুলেটের স্প্রিন্ট বিদ্ধ হয়ে ভারতীয় এক চোরাকারবারি জলাশয়ে পড়ে মারা যান। এরই মধ্যে অন্যরা সটকে পড়েন।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, ওই সীমান্তে রাবার বুলেটের শব্দে আমাদের বিজিবি সদস্যগণ জানতে পেয়ে আজ সকালে ঘণ্টাব্যাপী ভারত-বাংলাদেশ এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএসএফের সদস্য জানান, ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালালে ভারতীয় নাগরিক বুলেট বিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং আরও কয়েকজন আহতের খবর জানতে পাই। তবে বাংলাদেশি কেউ আহত কিংবা নিহত হয়নি বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর সাথে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোন সম্পর্ক নেই। এরপরও আমাদের সীমান্তে বিজিবি সদস্যগণ কড়া পাহাড়াসহ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এসএম/টিএ