আমি প্রতিবার এসব মৃত্যুতে কষ্ট অনুভব করি, মোদিকে ড. ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস থাইল্যান্ডে বিমস্টেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের মৃত্যু রোধে যৌথভাবে কাজ করলে তা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে এবং পরিবারের বেদনা কমাবে। তিনি মোদিকে অনুরোধ করেন, ভারত যেন এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উপায় খুঁজে বের করে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা শুধু আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালায় এবং এসব ঘটনা ভারতের ভেতরেই ঘটে। উভয় নেতা বিষয়টি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

ড. ইউনূস বলেন, "বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়, এবং আমাদের বন্ধুত্ব সুদৃঢ় ইতিহাস, ভৌগলিক নৈকট্য ও সাংস্কৃতিক সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।" তিনি গঙ্গা ও তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়েও আলোচনা করেন এবং ভারতকে এই চুক্তি নবায়ন ও চূড়ান্তকরণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত সর্বদা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয় এবং দুই দেশের সম্পর্ক জনগণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি আরও বলেন, "ভারত বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে না।"

ড. ইউনূস শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চান এবং তার অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা মিথ্যা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছেন। তিনি ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করেন, যাতে শেখ হাসিনাকে এসব বক্তব্য থেকে বিরত রাখতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উত্থাপন করেন তিনি। মোদি এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে দায়ী করেন এবং বলেন, "ভারতের সম্পর্ক কোনো ব্যক্তি বা দলের সঙ্গে নয়, বরং দেশের সঙ্গে।"

বৈঠকটি ছিল খোলামেলা, ফলপ্রসূ এবং গঠনমূলক, যেখানে দুই নেতা একে অপরকে সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করে এবং উভয় দেশের জনগণের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।


এসএস

Share this news on: