গত জুলাইয়ে যোগ দিয়েছিলেন বসুন্ধরা কিংসে, চুক্তির মেয়াদ ছিল তিন বছর; কিন্তু ছয় মাসের মাথায় ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন কিউবা মিচেল। এমন সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে এই তরুণ মিডফিল্ডার জানালেন বেতন না পাওয়ার কথা।
এই দেশের ক্লাব ফুটবলের বেতন সংক্রান্ত বিষয়ের নির্মম বাস্তবতাও তুলে ধরলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে শনিবার দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে কিংস ছাড়ার কারণসহ আরও অনেক বিষয় তুলে ধরেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।
“আজ আমি বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে আমার চুক্তি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রাপ্য বেতন পরিশোধ করা হয়নি। এটাই ছিল আমার এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রধান কারণ। তবে যেসব সমস্যা বারবার উঠেছে, কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি, এই পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে যাওয়া মানসিক ও শারীরিকভাবে খুবই কঠিন হয়ে পড়েছিল।”
কিংসে থাকা অল্প সময়ের স্মৃতিও কিউবা আওড়েছেন আবেগঘন বার্তায়। লিখেছেন ক্লাবের প্রতি নিবেদন ও নিষ্ঠায় কোনো ঘাটতি তার ছিল না কখনই।
“যদিও এখানে আমার সময়টা খুব বেশি দীর্ঘ ছিল না, তবুও এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয়। আমি এখানে আসার পর থেকে এখানকার জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও মানুষজনকে আপন করে নিয়েছিলাম। কিছু অসাধারণ সতীর্থ ও সমর্থকের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যারা আমাকে আপন করে নিয়েছিল এবং আবার মনে করিয়ে দিয়েছিল, কেন আমি এই খেলাটাকে এত ভালোবাসি।”
“এখানে থাকাকালীন, পুরোটা সময়ে আমি সর্বদা পেশাদারিত্ব বজায় রেখেছি। আমি অনুশীলন করেছি, ম্যাচ খেলেছি এবং ক্লাবের ব্যাজের প্রতি সম্মান রেখে নিজেকে পরিচালনা করেছি। একজন ফুটবলার শুধু মাঠে পারফরম্যান্সই দেয় না, আমরা দেই প্রতিশ্রুতি, শৃঙ্খলা ও বিশ্বাস। এর বিনিময়ে ন্যূনতম দায়িত্বগুলো অবশ্যই সম্মান করা উচিত।”
কিছুদিন আগে বেতন বকেয়া ইস্যুতেই কিংস ছাড়েন ফিনল্যান্ড প্রবাসী ডিফেন্ডার কাজী তারিক রায়হান। একইভাবে বিদায় নিতে হলেও মাঝের সময়ের অভিজ্ঞতা ‘তিক্ত’ ঠেকছে না কিউবার। তবে বেতন না পাওয়ায় তার ক্ষোভ-হতাশা আছে অবশ্যই।
“এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও আমি কোনো তিক্ততা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি না। অল্প সময়ের মধ্যেই যেসব সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং যেসব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, সেগুলোর জন্য আমি কৃতজ্ঞ। সেই মুহূর্তগুলো আমার সঙ্গে থেকেই যাবে। বাংলাদেশের ফুটবল আরও ভালো কিছু পাওয়ার দাবি রাখে। খেলোয়াড়দের জন্য আরও ভালো কাঠামো ও ন্যায়বিচার দরকার, যারা প্রতিদিন এই খেলাটার জন্য ত্যাগ স্বীকার করে। এখানে প্রচুর আবেগ ও সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেটা রক্ষা করা জরুরি।”
“আমি আশা করি, যারা একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন, বিশেষ করে যারা বেতন না পাওয়া বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কষ্ট নীরবে সহ্য করছেন, তারা যেন কথা বলার সাহস পান। ন্যায্য ও পেশাদার আচরণ চাওয়ার কারণে কোনো খেলোয়াড়েরই নিজেকে অসহায় মনে করা উচিত নয়। আমি এখন পরবর্তী অধ্যায়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”
আরআই/টিকে