আজ বলিউডের অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী এবং গ্লোবাল আইকন দীপিকা পাড়ুকোনের ৪০তম জন্মদিন। ১৯৮৬ সালের আজকের এই দিনে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই তারকা। তার এই বিশেষ দিনটিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই অনুরাগী এবং সহকর্মীদের শুভেচ্ছায় ভাসছেন তিনি।
ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে যে শিশুটির জন্ম হয়েছিল, চার দশক পর তিনি আজ কেবল একজন সফল অভিনেত্রীই নন, বরং বিশ্বজুড়ে ভারতীয় নারীর আত্মবিশ্বাস ও সাফল্যের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রতীক।
নিউ ইয়র্কে ব্যক্তিগত উদযাপন: পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এই মাইলফলক জন্মদিনটি দীপিকা সপরিবারে উদযাপন করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে। স্বামী রণবীর সিং এবং তাদের ছোট সন্তানের সঙ্গে একান্তেই সময় কাটাচ্ছেন তিনি। বড় কোনো জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের বদলে ব্যক্তিগত পরিসরেই দিনটি কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই দম্পতি।
৪০-এর মাইলফলক ও নিউ ইয়র্কের নির্জনতা: জীবনের ৪০তম এই বসন্তটি দীপিকার জন্য অনেকটা আলাদা। গত কয়েক বছর ধরে দীপিকা পাড়ুকোন এবং রণবীর সিং যে রাজকীয় উদযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন, ২০২৬-এর প্রেক্ষাপট তার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন।
জানা গেছে, এ বছর কোনো বড় পার্টি নয়, বরং স্বামী রণবীর সিং এবং তাদের ছোট সন্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের এক শান্ত পরিবেশে জন্মদিনটি কাটাচ্ছেন তিনি। মাতৃত্বের স্বাদ পাওয়ার পর এটিই দীপিকার সবচেয়ে বড় মাইলফলক জন্মদিন, তাই ব্যক্তিগত সময়কে তিনি সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছেন।
ভক্তদের সঙ্গে সেই ‘ম্যাজিক্যাল’ বিকেল: জন্মদিনের মূল উদযাপন ব্যক্তিগত হলেও, ভক্তদের কথা ভোলেননি দীপিকা। গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এ মুম্বাইয়ের একটি মিলনায়তনে তিনি আয়োজন করেছিলেন এক বিশেষ 'থ্যাঙ্ক ইউ' ইভেন্ট। সেখানে শত শত ভক্তের সাথে কেক কাটা, খোলামেলা আড্ডা এবং মানসিকভাবে সুস্থ থাকার বার্তা ভাগ করে নেন তিনি। ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, "আমার এই ৪০ বছরের যাত্রায় আপনারা যারা পাশে ছিলেন, তাদের সাথে এই মুহূর্তটি ভাগ করে নেওয়া আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।"
ক্যারিয়ার ও আগামীর হাতছানি: ২০০৭ সালে 'ওম শান্তি ওম' দিয়ে বলিউডে রাজকীয় অভিষেক থেকে শুরু করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত দীপিকা পাড়ুকোনের ক্যারিয়ার যেন এক রূপকথা। গত বছরেও তিনি একাধিক আন্তর্জাতিক প্রজেক্ট এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কাজে যুক্ত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। বিশেষ করে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'লাইভ লাভ লাফ' ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি সমাজের অন্ধকার দূর করার যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তা এই ৪০ বছর বয়সে এসে আরও পরিণত হয়েছে।
অনুপ্রেরণার নাম দীপিকা: প্রকাশ পাড়ুকোনের কন্যা হিসেবে নয়, বরং নিজের যোগ্যতায় 'পিকু', 'পদ্মাবতী' বা 'মাস্তানি' হয়ে দীপিকা কোটি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। ৪০ বছর বয়সে এসেও তার রূপ ও অভিনয়ের জাদু অমলিন।
বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে হোক বা অস্কারের মঞ্চে উপস্থাপিকা দীপিকা বারবার প্রমাণ করেছেন যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজ কেবল শুভেচ্ছাবার্তা নয়, বরং এক সফল নারীর প্রতি শ্রদ্ধার প্রতিফলন ঘটছে। ভক্তদের কামনায় একটাই সুর ৪০-এর দীপিকা যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে ফিরে আসেন রূপালি পর্দায় এবং সমাজের মূলধারায়।
পিআর/টিকে