ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলাকে ‘গভীর উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়’ বলে অভিহিত করেছে রাশিয়া।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের এই সশস্ত্র আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। মস্কোর মতে, হামলার সপক্ষে ওয়াশিংটন যে অজুহাতগুলো দাঁড় করিয়েছে তার কোনো শক্ত ভিত্তি নেই। বরং এখানে গঠনমূলক আলোচনার পরিবর্তে আদর্শিক বৈরিতা প্রাধান্য পেয়েছে।
রাশিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, লাতিন আমেরিকাকে শান্তির অঞ্চল হিসেবে রক্ষা করতে হবে এবং কোনো প্রকার বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই ভেনেজুয়েলাকে তার নিজের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে।
প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি নিয়ে রাশিয়া চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মস্কো এই পরিস্থিতির দ্রুত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করে বলেছে, যদি এ ধরনের ঘটনা সত্যিই ঘটে থাকে তবে তা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর অগ্রহণযোগ্য আঘাত। রুশ ফেডারেশন কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার কনস্ট্যান্টিন কোসাচেভ এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ দেশই যুক্তরাষ্ট্রের এই অবৈধ পদক্ষেপ থেকে নিজেদের দূরে রাখবে।’
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকার দাবিকে সমর্থন জানিয়েছে।
এদিকে কারাকাসে অবস্থিত রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, হামলায় তাদের মিশন ভবনের কোনো ক্ষতি হয়নি। ভেনেজুয়েলা সরকার ইতিমধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অবস্থান সম্পর্কে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় তার ‘জীবিত থাকার প্রমাণ’ দাবি করেছে।
দীর্ঘদিনের মাদক পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের এই বড় ধরনের সামরিক অভিযানের বিপরীতে রাশিয়া সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। মস্কো প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, যেকোনো আলোচনার উদ্যোগে তারা সব ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত।
ইউটি/টিএ