বলিউড তারকা দম্পতি জেনেলিয়া-রিতেশ নাকি মাছ-মাংস খান না। এমনকি দুধ এবং দুধের তৈরি খাবার থেকেও দূরে থাকেন। জেনেলিয়া ডিসুজা বরাবরই তার জীবনের ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে অকপট।
ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকাকালীন বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন তিনি। ছেলেদের সামলাতে অভিনয়েকে বিদায় জানিয়েছেন। সম্প্রতি সোহা আলি খানের পডকাস্টে এসে তিনি তার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের দীর্ঘ যাত্রার কথা শেয়ার করেছেন।
সেই পডকাস্টে জেনেলিয়া জানান, ২০১৭ সাল থেকে তিনি মাংস খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছেন। শুরুটা ছিল 'ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যসম্মত' কারণে
জেনেলিয়া জানান, তার নিরামিষাশী হয়ে ওঠার সিদ্ধান্তটি কোনো ট্রেন্ড বা হুজুগের বশে ছিল না। তিনি বলেন, ‘অনেকে বলেন যে এই পরিবর্তনের পেছনে আধ্যাত্মিক কোনো কারণ থাকে, আমার ক্ষেত্রেও প্রথমে সেটাই হয়েছিল। তবে সত্যি বলতে, আমার প্রথম পদক্ষেপটি ছিল কিছুটা স্বার্থপর। আমি ভেবেছিলাম এই ধরনের জীবনযাপন আমার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হবে।’
জেনেলিয়া বড় হয়েছেন একটি কট্টর আমিষাশী পরিবারে। ফলে নিরামিষ খাবার সম্পর্কে তার ধারণা ছিল খুবই সীমিত। তার কথায়, ‘আমি নন-ভেজ ফ্যামিলিতে বড় হয়েছি, তাই নিরামিষ খাবার মানেই বুঝতাম শুধু মটরশুঁটি, আলু আর পনির। এর বাইরে যে বৈচিত্র্য থাকতে পারে তা জানতাম না।’
ধীরে ধীরে মাংস খাওয়া কমানোর পর তিনি লক্ষ্য করেন যে, খাবার খাওয়ার পর শরীর অনেক হালকা লাগছে। এই উপলব্ধিই তাকে আরও সচেতনভাবে বাঁচার এবং জীবনে নিয়মানুবর্তিতা আনার অনুপ্রেরণা দেয়।
২০১৭ সালে মাংস ছাড়লেও তিনি হঠাৎ করে সব প্রাণিজ খাবার ত্যাগ করেননি। শুরুতে তিনি দুধ, পনির এবং ডিম খেতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই অভ্যাসেও বদল এনেছেন তিনি। এই পরিবর্তন তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আরও শান্তি দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এই যাত্রাটি করোনা মহামারি এক বড় ভূমিকা পালন করেছিল। সোহা আলি খানের পডকাস্টে জেনেলিয়া বিস্তারিত জানিয়েছেন কীভাবে স্বামী রিতেশ দেশমুখের অনুপ্রেরণায় তিনি প্রাণিজ খাবার ত্যাগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
রিতেশ দেশমুখ ২০১৬ সালেই মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার মনে হয়েছিল, আমিষ খাবার আর তার শরীরের সাথে মানিয়ে নিচ্ছে না। জেনেলিয়া ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মাংস ছাড়লেও তারা দুজনেই ডিম এবং দুগ্ধজাত পণ্য (দুধ, পনির) গ্রহণ করতেন। ২০২০ সালে লকডাউনের সময় তারা সব ধরনের প্রাণিজ খাবার বর্জন করেন।
এসএন