দুর্ভাগ্যজনকভাবে আধা ঘণ্টার মাথায় গোল হজম করল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। রক্ষণে হাস্যকর ভুলে কিছুক্ষণ পরেই সেই লিড হাতছাড়া করল আর্সেনাল। বিরতির পর লড়াই জমে উঠল আরও। কয়েক দফায় ম্যাচের মোড় বদলের নাটকীয়তায় অসাধারণ এক জয়ের আনন্দে ভাসল ইউনাইটেড।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে রোববার প্রিমিয়ার লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি ৩-২ গোলে জিতেছে ইউনাইটেড।
লিসান্দ্রো মার্তিনেসের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, ব্রায়ান এমবুমোর গোলে সমতায় ফেরে সফরকারীরা। বিরতির পর প্যাট্রিক ডগুর গোলে এগিয়েও যায় তারা। শেষ দিকে মিকেল মেরিনোর গোলে পয়েন্ট পাওয়ার আশা জাগায় আর্সেনাল; কিন্তু দারুণ নৈপুণ্যে তাদের সেই আশা গুঁড়িয়ে দেন মাথেউস কুইয়া।
নতুন বছরে এই প্রথম আর চলতি মৌসুমে তৃতীয় হারের তেতো স্বাদ পেল আর্সেনাল এবং তিনটি পরাজয়ই এলো প্রিমিয়ার লিগে।
অন্যান্য প্রতিযোগিতায় জয়ের ধারায় থাকলেও, প্রিমিয়ার লিগে কিছুদিন ধরেই ভুগছিল মিকেল আর্তেতার দল। লিগে আগের দুই রাউন্ডেই গোলশূন্য ড্র করে দলটি। এবার জালের দেখা পেলেও, পথ হারিয়ে হেরে বসল তারা।
একই সঙ্গে হারাল দ্বিতীয় স্থান থেকে ব্যবধান ৭ পয়েন্ট বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ। ২৩ ম্যাচে ১৫ জয় ও ৫ ড্রয়ে আর্সেনালের পয়েন্ট ৫০। সমান ম্যাচে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি দুইয়ে ও অ্যাস্টন ভিলা তিন নম্বরে আছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে থাকা ইউনাইটেড নতুন কোচ মাইকেল ক্যারিকের ছোঁয়ায় যেন সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছে। গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার ডার্বি জয়ের পর, এবার তারা আরেক শিরোপাপ্রত্যাশীদের হারিয়ে দিল। দারুণ এই জয়ে লিগ টেবিলেও উন্নতি হয়েছে ইউনাইটেডের। ১০ জয় ও ৮ ড্রয়ে ৩৮ পয়েন্ট চার নম্বরে উঠেছে তারা।
ম্যাচের শুরুটা বেশ আশাব্যঞ্জকই ছিল আর্সেনালের। শুরু করে আক্রমণাত্মক ফুটবল। ১৮তম মিনিটে তাদের প্রথম প্রচেষ্টা লক্ষ্যে থাকে; মার্তিন সুবিমেন্দির হেড ক্ষীপ্রতায় আটকে দেন গোলরক্ষক।
চাপ ধরে রেখে ২৯তম মিনিটে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। বাইলাইন থেকে বুকায়ো সাকার কাটব্যাক পেয়ে শট নেন মার্টিন ওডেগোর, বল গোলমুখে টিম্বারকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা লিসান্দ্রো মার্তিনেসের পায়ের পেছনে লেগে জালে জড়ায়।
পাঁচ মিনিট পরেই সমতা টানার সুযোগ আসে ব্রুনো ফের্নান্দেসের সামনে। কিন্তু ডি-বক্সে দারুণ পজিশনে বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। এর দুই মিনিট পরই অবশ্য গোল পেয়ে যায় তারা।
স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সুবিমেন্দির মারাত্মক এক ভুলে গোল হজম করে আর্সেনাল। ডি-বক্সের বাইরে অবিশ্বাস্য ভুল পাসে প্রতিপক্ষের এমবুমোর পায়ে বল তুলে দেন তিনি। বল ধরে বিনা বাধায় ডি-বক্সে ঢুকে, ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষককে কাটিয়ে সমতা টানেন ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে অসাধারণ নৈপুণ্যে দলকে এগিয়ে নেন ডগু। ফের্নান্দেসের সঙ্গে দুইবার বল দেওয়া-নেওয়ার ফাঁকে প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে, ডি-বক্সের মুখে গিয়ে জোরাল শট নেন তরুণ ডেনিশ উইঙ্গার, বল গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে গিয়ে ক্রসবারে লেগে ভেতরে ঢোকে।
গত সপ্তাহে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে দলের ২-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচেও দ্বিতীয় গোলটি করেছিলেন ডগু। পিছিয়ে পড়ার পর আবার চাপ বাড়ায় আর্সেনাল, যদিও খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা। ৮৩তম মিনিটে সাকার শট ঝাঁপিয়ে বল বাইরে পাঠান গোলরক্ষক।
ওই কর্নারেই গোল পেয়ে যায় তারা। জটলার মধ্যে তাদের প্রথম প্রচেষ্টা গোললাইনে প্রতিহত হওয়ার পর, কাছ থেকে ফের শট নেন মিকেল মেরিনো, সেটি ফিরিয়ে দেন বেনিয়ামিন সেসকো; তবে বল গোললাইন পেরিয়ে গিয়েছিল। সমতার স্বস্তি ফেরে আর্সেনাল শিবিরে, জাগে নতুন আশাও।
তবে তিন মিনিট পরেই দুর্দান্ত গোলে তাদেরকে হতাশায় ডোবান কুইয়া। সতীর্থের পাস ধরে একটু এগিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শট নেন এমবুমোর বদলি নামা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড, বল পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়।
সাত মিনিট যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ সময়ে নিশ্চিত সুযোগ পায় আর্সেনাল; কিন্তু আর কোনো নাটকীয়তার জন্ম দিতে পারেনি তারা।দিনের আরেক ম্যাচে ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে ৩-১ গোলে জিতেছে চেলসি। ২৩ ম্যাচে ১০ জয় ও ৭ ড্রয়ে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠেছে তারা।
ইউনাইটেড ও চেলসির জয়ে দুই ধাপ নিচে নেমে ষষ্ঠ স্থানে আছে লিভারপুল, ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে।
এমআর/টিএ