লাহোরে ফেব্রুয়ারিতে বসবে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নিলাম। তার আগে আজ একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি উপস্থিত ছিলেন।
খেলোয়াড়দের মধ্যে পিএসএলের ইতিহাসে দুই সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক বাবর আজম ও ফখর জামান এবং সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি দুই বোলার হাসান আলি ও শাহিন শাহ আফ্রিদিও কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় পিএসএল ব্যবস্থাপনা দল খেলোয়াড় ধরে রাখা (রিটেনশন) ও অকশন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত কাঠামো তুলে ধরে। অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পিএসএল নিলাম বসবে।
এ সময় জানানো হয়, খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্য। নিলামের সব মূল্য পাকিস্তানি রুপিতে নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ রুপি। অন্য ক্যাটাগরিগুলোর ভিত্তিমূল্য ২ কোটি ২০ লাখ, ১ কোটি ১০ লাখ এবং ৬০ লাখ রুপি।
নূন্যতম ইনক্রিমেন্টাল বিড বা বাড়তি দরও নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ কোটি ১০ লাখ রুপির নিচে বিডের ক্ষেত্রে বাড়তি দর হবে ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি, ২ কোটি ২০ লাখ রুপির নিচে ৫ লাখ রুপি, ৪ কোটি ২০ লাখ রুপির নিচে ১০ লাখ রুপি এবং ৪ কোটি ২০ লাখ রুপির ওপরে বিডের ক্ষেত্রে ১৫ লাখ রুপি। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চাইলে এই নূন্যতম সীমার চেয়েও বেশি দর হাঁকাতে পারবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি দলের স্কোয়াডে সর্বনিম্ন ১৬ জন ও সর্বোচ্চ ২০ জন খেলোয়াড় থাকতে পারবে। স্কোয়াডের আকার অনুযায়ী বিদেশি খেলোয়াড় রাখা যাবে ৫ থেকে ৭ জন। একাদশে ন্যূনতম ৩ জন এবং সর্বোচ্চ ৪ জন বিদেশি খেলোয়াড় খেলানো বাধ্যতামূলক।
প্রতিটি দলে অন্তত দুজন অনক্যাপড (অনিভিষিক্ত) অনূর্ধ্ব–২৩ খেলোয়াড় থাকতে হবে এবং একাদশে অন্তত একজনকে খেলাতে হবে। অকশন বা রিটেনশনের মাধ্যমে দলে আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি হবে। পিএসএলের একাদশ সংস্করণ শেষে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ সাতজন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে ১২তম আসরের জন্য।
পিএসএল-১২ শেষে একটি ‘গ্র্যান্ড অকশন’ হবে, যেখানে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় ধরে রাখার সুযোগ পাবে। যেসব খেলোয়াড় ছেড়ে দেওয়া হবে, তারা আবার অকশন পুলে ফিরে আসবেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সরাসরি একজন বিদেশি খেলোয়াড় সাইন করতেও পারবে, যিনি পিএসএল দশম আসরে খেলেননি। এ ক্ষেত্রে দলের মূল পার্স ৪৫ কোটি রুপি থেকে বাড়িয়ে ৫০ কোটি ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত করা যাবে।
এলিট বিদেশি খেলোয়াড় আনতে পিসিবিও আর্থিক সহায়তা দেবে।
পিএসএল নিলামের জন্য নাম জমা দিয়েছেন বাংলাদেশের ১০ জন ক্রিকেটার। সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, তানজিদ হাসান তামিমরা রয়েছেন তালিকায়।
কর্মশালা শেষে উজ্জ্বল পিএসএলের কথা বললেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, ‘আজ ফ্র্যাঞ্চাইজি, খেলোয়াড় ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে একটি ফলপ্রসূ ও পরামর্শভিত্তিক আলোচনা হয়েছে। এর ফলে যে কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, তা পিএসএলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। প্লেয়ার অকশন মডেল এইচবিএল পিএসএলের জন্য একটি মাইলফলক। এতে খেলোয়াড়রা বাড়তি আর্থিক সুযোগ পাবে, একই সঙ্গে লিগ আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’
লিগের প্রধান নির্বাহী সালমান নাসির অপেক্ষায় রোমাঞ্চকর পিএসএলের, ‘এইচবিএল পিএসএলের নতুন যুগ শুরু হলো। অকশন পদ্ধতি খেলোয়াড় দলে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য ও বাজারভিত্তিক করবে। আজকের কর্মশালায় পাওয়া মতামতগুলো আমরা সফল একটি প্লেয়ার অকশন আয়োজনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করব। সমর্থকদের জন্য সামনে আরও রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে।’
টিজে/টিএ