রুপালি দুনিয়ায় ছবির ঘোষণা মানেই সাধারণত উচ্ছ্বাস, কৌতূহল আর অপেক্ষার পালা। কিন্তু কখনও কখনও একটি নামই ডেকে আনে ঝড়। ঠিক তেমনই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন মনোজ বাজপেয়ী। আসন্ন একটি ছবির শিরোনাম প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক, যার রেশ পৌঁছে গেছে আদালতের দরজায়।
নতুন ছবির নাম ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আপত্তির সুর ওঠে। অভিযোগ, ছবির শিরোনামে ব্যবহৃত একটি শব্দ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের মর্যাদাকে আঘাত করেছে। এই অভিযোগ নিয়েই দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন মহেন্দ্র চতুর্বেদী নামে এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে ধর্মগ্রন্থ অধ্যয়ন ও শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত আচার্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানান, ‘পণ্ডিত’ শব্দটি ঐতিহাসিকভাবে জ্ঞান, নীতি ও আধ্যাত্মিক দিশার প্রতীক। সেই শব্দের সঙ্গে নেতিবাচক বিশেষণ জুড়ে দেওয়া মানে একটি গোটা সম্প্রদায়কে অপমান করা। তাঁর দাবি, এতে সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘনও ঘটেছে।
অন্যদিকে ছবির কাহিনি ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন আলোচনা। জানা গেছে, ছবিতে যে চরিত্রকে ‘পণ্ডিত’ নামে ডাকা হচ্ছে, তিনি আদতে এক দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ আধিকারিক, যিনি ঘুষ নেওয়ার জন্য কুখ্যাত। কিন্তু এক ভয়াবহ ঘটনার পর তাঁর জীবনে আসে মোড়, বদলে যায় দৃষ্টিভঙ্গি। এই জটিল চরিত্রেই অভিনয় করেছেন মনোজ বাজপেয়ী। অর্থাৎ ছবির নাম ও চরিত্রের উপস্থাপন নিয়েই মূল আপত্তি, যা এখন আইনি বিতর্কে রূপ নিয়েছে।
এদিকে নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ফলে ছবির মুক্তি ঘিরে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিনোদন জগতে যেখানে নামই অনেক সময় পরিচয়ের প্রথম সোপান, সেখানে একটি শব্দই কীভাবে বিতর্কের আগুন জ্বালাতে পারে, মনোজ বাজপেয়ীর নতুন ছবিকে ঘিরে সেই ছবিটাই এখন স্পষ্ট।
পিআর/টিকে