সাবেক ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলীর স্বপ্ন, একদিন ইংল্যান্ড জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়া। আপাতত বিষয়টি দূরবর্তী মনে হলেও তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, ভবিষ্যতে শীর্ষ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক কোচ হওয়ার প্রবল ইচ্ছা তার।
ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মঈন বলেন, ‘এটাই আমার স্বপ্ন। শতভাগ। একদিন আমি অবশ্যই শীর্ষ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক কোচ হতে চাই।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেয়ার প্রায় দেড় বছর পার হলেও মঈনের ব্যস্ততা কমেনি। গত ছয় মাসে তিনি খেলেছেন ক্যারিবিয়ান, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। সামনে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) করাচি কিংসের হয়ে খেলতে যাচ্ছেন তিনি। এর পাশাপাশি কোচিংয়েও ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছেন মঈন। শিগগিরই আবুধাবিতে ইংল্যান্ড লায়ন্সের সাদা বলের ক্যাম্পে কোচিং স্টাফের অংশ হিসেবে যোগ দেবেন তিনি। এই দলে থাকবেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ, বেন স্টোকস, আদিল রশিদের বড় ভাই ও স্পিন বোলিং কোচ আমর রশিদ, পাশাপাশি নিল ম্যাকেঞ্জি, সাবেক ইংল্যান্ড উইকেটকিপার সারাহ টেলর ও নিল কিলেন।
এই সুযোগ নিয়ে মঈন বলেন, ‘এটা দারুণ একটি সুযোগ। আমি সত্যিই খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।’
কোচিংয়ের পাশাপাশি ধারাভাষ্যকার হিসেবেও কাজ শুরু করছেন মঈন। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কাই স্পোর্টসের প্যানেলে থাকবেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে মঈনের উচ্ছ্বাস স্পষ্ট, ‘ছোটবেলা থেকেই স্কাই স্পোর্টস দেখে বড় হয়েছি। ওদের হয়ে কাজ করা সত্যিই সম্মানের।’
তবে মঈনের প্রকৃত টান কোচিংয়ের দিকেই। তিনি বর্তমানে ইসিবির লেভেল থ্রি কোচিং কোর্স করছেন। কোচিং তার পরিবারের সঙ্গেই যেন জড়িয়ে আছে। তার বাবা মুনির আলী ছিলেন তার প্রথম কোচ এবং এখনো মঈন আলী ক্রিকেট একাডেমি পরিচালনা করেন। ভাই কাদির আলী ওয়ারউইকশায়ারের সহকারী কোচ, আর চাচাতো ভাই কবির আলী ওয়ারউইকশায়ার নারী দলের বোলিং কোচ।
এ বিষয়ে মঈন বলেন, ‘ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার আগেই আমি বাবার একাডেমিতে নিয়মিত কোচিং করাতাম। আমাদের পরিবারে কোচিং যেন রক্তে মিশে আছে।’
কোচিং দর্শনে মঈন নিজেকে ‘ওল্ড স্কুল’ ভাবেন। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে মানসিক দিককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেখানে তিনি টেকনিককে ভিত্তি হিসেবে দেখেন। মঈন বলেন, ‘আমি সব সময় টেকনিকের ওপর বিশ্বাস করি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের কারণে এখন অনেক সময় ব্যাটিংয়ের মূল ভিত্তিটা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। টেস্ট ক্রিকেটের মতো শক্ত টেকনিক না থাকলে বড় মঞ্চে সমস্যা হয়। অস্ট্রেলিয়ায় আমরা সেটাই কিছুটা দেখেছি।’
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মঈন মনে করেন, স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে তিনি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারেন। আংশিক বোলার থেকে পূর্ণাঙ্গ স্পিনারে রূপান্তরের পুরো পথটাই নিজে হেঁটেছেন তিনি। পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার সাকলাইন মুশতাকের কাছ থেকে শেখাকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন মঈন।
ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদী মঈন বলেন, ‘এখনো সেটা অনেক দূরের ব্যাপার মনে হয়। কিন্তু ক্রিকেটে অনেক কিছু দ্রুত বদলে যায়। আমি সময় নেব, দেখব কোচিং আর ধারাভাষ্যের মধ্যে কোনটা আমার জন্য স্বাভাবিকভাবে এগোয়।’
এরই মধ্যে ইংলিশ ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরছেন মঈন। সংক্ষিপ্ত অবসরের সিদ্ধান্ত বদলে তিনি চলতি মৌসুমে ইয়র্কশায়ারের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট খেলবেন। ক্লাবটির অতীতের বর্ণবাদ বিতর্কের প্রেক্ষাপটে সিদ্ধান্তটি চমক জাগালেও মঈন মনে করেন, এটি সেতুবন্ধনের একটি সুযোগ।
তিনি বলেন, ‘জনি বেয়ারস্টো আমাকে ফোন করে বলেছিল, ইয়র্কশায়ারে আমাকে দেখতে চায়। আমি জানি, অনেকের কাছে এটা বিস্ময়কর লাগতে পারে। কিন্তু আমি মনে করি, এটা সম্পর্ক গড়ে তোলার একটা সুযোগ। যদি এতে কিছুটা হলেও সেতুবন্ধন হয়, সেটাই হবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
আরআই/টিকে