স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ছাবিউল ইসলামের গাড়ি থেকে উদ্ধারকরা ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জিত বলে প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহী দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন সেই প্রকৌশলীসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার প্রধান আসামি মো. ছাবিউল ইসলাম এলজিইডি গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন এবং বর্তমানে সদর দপ্তর এলজিইডি, আগারগাঁওয়ে কর্মরত। মামলায় আরও দুজনকে সহায়তাকারী আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন- বাপ্পি কুমার দাস ও তার ছেলে রিন্তু কুমার দাস।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, মো. ছাবিউল ইসলাম জ্ঞাতসারে নিজের উপর অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধভাবে উপার্জিত ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩০০ টাকা অর্জন করেন। ওই অর্থের প্রকৃতি, উৎস ও মালিকানা গোপন করার অসৎ উদ্দেশ্যে ঢাকা-মেট্রো-ঘ-১২-৮৭৯৭ নম্বর গাড়িতে করে অন্যত্র স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং অপরাধ হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৪ মার্চ রাত ২টার দিকে নাটোরের সিংড়া উপজেলায় ওই প্রকৌশলীর গাড়ি থেকে ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা জব্দ করা হয়েছিল।
পুলিশ ও দুদক সূত্রে জানা যায়, থানা-পুলিশ ও সেনাসদস্যরা যৌথভাবে রাতে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের যানবাহন তল্লাশি করছিলেন। রাত ২টার দিকে বগুড়া থেকে নাটোর অভিমুখে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে তল্লাশির সময় গাড়ির পেছনের ডালায় বিপুল পরিমাণ টাকা দেখতে পান। এ সময় গাড়িতে থাকা আরোহী ছাবিউল ইসলাম নিজেকে গাইবান্ধা জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী পরিচয় দেন। তখন ওই ব্যক্তিকে ও তার গাড়ির চালকসহ সিংড়া থানায় নিয়ে যান।
এর আগে ঘটনাটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরে ইউএনও ও সেনাসদস্যদের উপস্থিতিতে পুলিশ টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাবিউল ইসলাম জানান, গাড়িতে ৩০ লাখ টাকা আছে। এসব টাকা তাঁর জমি বিক্রির টাকা। তবে বাস্তবে ৩৬ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা পাওয়া যায়। এত টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে না পাঠিয়ে রাতের আঁধারে গাড়িতে করে কেন নেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
আরআই/টিকে