সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে জো রুটের ঝলমলে ইনিংসে ইংল্যান্ড করেছিল ৩৮৪ রান। ২১৮ রানে পিছিয়ে থেকে আজ (মঙ্গলবার) তৃতীয় দিন খেলতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার দাপটে চাপা পড়ল তারা। ট্র্যাভিস হেড ও স্টিভ স্মিথের কীর্তিময় ইনিংসে ১৩৪ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিন খেলতে নামবে স্বাগতিকরা।
২ উইকেটে ১৬৬ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করার পর হেড নাইটওয়াচম্যান মাইকেল নেসারকে যোগ্য সঙ্গী হিসেবে পান। নেসার ৯০ বল খেলে ২৪ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ৭২ রানের জুটি ভাঙার পর স্মিথের সঙ্গে দ্বিতীয় সেশনে ৫৪ রান যোগ করেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। দ্বিতীয় সেশনে এই জুটিতে ৫৪ রান যোগ করে হেড আউট হলেও স্মিথ ছিলেন অবিচল। ১৬৬ বলে ২৪ চার ও ১ ছয়ে ১৬৩ রান করেন হেড।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের প্রথম ভাগে হেড, পরের ভাগে স্মিথ আধিপত্য দেখান। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলতে নেমে উসমান খাজা (১৭) হতাশ করেছেন। যদিও স্মিথের সঙ্গে তার জুটি ছিল ৫১ রানের। খাজার পর অ্যালেক্স ক্যারিও (১৬) ব্যর্থ।
বিজ্ঞাপন
পরে স্মিথ ৭১ রানের জুটি গড়েন ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে। বেউ ওয়েবস্টারের সঙ্গে তিনি ৮১ রান তুলে দিন শেষ করে এসেছেন। ২০৫ বলে ১২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ১৬৬ বলে ৩৭তম সেঞ্চুরি করা স্মিথের সঙ্গে অন্য প্রান্তে ৪২ রানে খেলছিলেন ওয়েবস্টার। এটি এই ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি, যা এক টেস্ট ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৭ সালে ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারত আটটি পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়েছিল।
মাঠে কঠিন দিন পার করেছে ইংল্যান্ড। চারটি ক্যাচ ছাড়ার সঙ্গে একটি রান আউটের সুযোগ নষ্ট করেছে তারা। অ্যাশেজে অভিষেক দুঃস্বপ্নের মতো হয়েছে ম্যাথু পটসের, ২৫ ওভারে রেকর্ড ১৪১ রান দিয়েছেন। আরেক পেসার ব্রাইডন কার্স সর্বোচ্চ তিন উইকেট নিলেও খরুচে ছিলেন, দেন ১০৮ রান।
দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৫১৮ রান। এই ম্যাচের দুই সেঞ্চুরিয়ান হেড ও স্মিথ গড়েছেন একাধিক কীর্তি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় ডন ব্র্যাডম্যানের (৫০২৮) পরে স্মিথ (৩৬৮২)। অ্যাশেজে সর্বোচ্চ রানের তালিকাতেও তিনি কিংবদন্তির পরে দুই নম্বরে। অ্যাশেজে এটি ছিল স্মিথের ১৩ সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ডের জ্যাক হবসকে (১২) ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। তার উপরে কেবল ব্র্যাডম্যান (১৯)। সিডনিতে স্মিথ ১২ ম্যাচ খেলে ১২২৫ রান ও ৫ সেঞ্চুরি করেছেন। এই ভেন্যুতে একমাত্র পন্টিং তার চেয়ে বেশি রান (১৪৮০) ও সেঞ্চুরি (৬) করেছেন।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পঞ্চম টেস্টের তৃতীয় দিনে আরেকটি সেঞ্চুরি করে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলেছেন হেড। এই ভেন্যুতে তিনি তার প্রথম ও এক সিরিজে ওপেনার হিসেবে যৌথ সর্বোচ্চ তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন।
পার্থ ও অ্যাডিলেডে ম্যাচ জয়ী ইনিংসের পর চলতি সিরিজে তিন নম্বর সেঞ্চুরি করে ১১ জনের অভিজাত তালিকায় নাম লিখলেন হেড, যেখানে আছেন ম্যাথু হেইডেন, অ্যালিস্টার কুক, মাইকেল স্ল্যাটার ও জ্যাক হবসের মতো লিজেন্ডরা।
তবে ঘরের মাঠে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ২৪ বছরের এক দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেন হেড। ২০০২-০৩ মৌসুমে হেইডেনের পর প্রথম অস্ট্রেলীয় ওপেনার হিসেবে ঘরের মাঠে অ্যাশেজে তিনটি সেঞ্চুরি করার নজির গড়লেন তিনি। একই সঙ্গে সেঞ্চুরির ইনিংসের পথে তিনি কিংবদন্তি ব্র্যাডম্যানের ৯৬ বছরের পুরোনো এক অনন্য কীর্তিকে ছাড়িয়ে গেছেন। অ্যাশেজের ইতিহাসে ১৫২ বলে যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম ১৫০ রান করার রেকর্ড গড়েছেন। তিনি ব্র্যাডম্যানকে ছাড়িয়ে যান, যিনি ১৯৩০ সালে লর্ডসে ১৬৬ বলে ১৫০ রান করেছিলেন। হেড এই তালিকায় দুইবার স্থান পাওয়া একমাত্র ব্যাটার; এর আগে ২০২১ সালে ব্রিসবেনে তিনি ১৪৩ বলে ১৫০ রান করেছিলেন।
বিশ্বের পঞ্চম ক্রিকেটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সাতটি ভিন্ন ভেন্যুতে টেস্ট সেঞ্চুরির কীর্তিও গড়লেন হেড। তার আগে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহ এবং জাস্টিন ল্যাঙ্গার, হেইডেন ও ডেভিড ওয়ার্নার এই কীর্তি গড়েন। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে দুবাইয়ে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল হেডের। ৬৫তম টেস্ট ম্যাচে খেলার পথে তিনি অ্যাডিলেড, ব্রিসবেন, ক্যানবেরা, হোবার্ট, পার্থ, মেলবোর্নের পর এবার সিডনিতেও শতক হাঁকালেন।
আরআই/টিকে