জামায়াত এখন পরিশুদ্ধ, পরিশুদ্ধ না হলে বীরবিক্রম এবং মুক্তিযোদ্ধা তাদের সঙ্গে জোটে গেল কীভাবে-বলে মন্তব্য করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। তিনি জানান, সুশাসন দেয়ার জন্যই তারা একসাথ হয়েছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে এলডিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যারা বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করেছে, সবাইকে মুক্তভাবে কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছে, সেই তরুণদের অধিকাংশ ছিল জামাতের ছেলেরা। তারা দ্বিতীয়বার বাংলাদেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছে। আর আমি প্রথমবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলাম। এখন আমরা সবাই একসাথ হয়েছি।
অলি আহমদ বলেন, আমরা জামায়াতে যোগদান করিনি, জামায়াতও এলডিপিতে যোগ দেয়নি। আমাদের প্রতীক ‘দাড়িপাল্লা’ নয়, আমাদের প্রতীক ‘ছাতা’। আমরা মুক্তিযুদ্ধের শক্তি এবং জুলাইয়ের শক্তি একত্রিত হয়েছি। আমরা আসন সমঝোতা করেছি। আমরা যে আসনে প্রার্থী দেব, জামায়াত সেখানে প্রার্থী দেবে না। একইভাবে তারা যেখানে প্রার্থী দেবে, আমরাও সেখানে দেব না।
জানান, বাংলাদেশ কীভাবে চলবে সেটি দেশের জনগণ ঠিক করবে। ভারতের সঙ্গে কোনও বিরোধ নেই। দিল্লিতে সিদ্ধান্ত আর বাংলাদেশে কাজ হবে, এই ধরনের বেঈমানি ও মোনাফেকির কাজে যাওয়া যাবে না।
এলডিপির এই নেতা বলেন, আমরা ভারতের দালাল হতে চাই না, যারা ভারতের দালালি করছে তাদেরকে চিহ্নিত করুন। তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিন। কারণ, তারা বাংলাদেশকে ভারতের কাছে বিক্রি করতে চায়। অর্থ ও নারীসহ বিভিন্ন লোভে আকৃষ্ট হয়ে তারা ভারতের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
বাংলাদেশ কীভাবে চলবে, সেটি দেশের জনগণ ঠিক করবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভারতের সাথে কোনো বিরোধ নেই। তবে আমরা মোদির গোলাম হিসেবে কাজ করব না। অমিত শাহর গোলাম হিসেবে কাজ করব না। বাংলাদেশের জনগণ ঠিক করবে, বাংলাদেশ কীভাবে চলবে। দিল্লিতে সিদ্ধান্ত হবে আর বাংলাদেশে কাজ হবে, এই ধরনের বেইমানি আর মোনাফেকির কাজে আমরা যাব না।
এর আগে, গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুক্ত হয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটে। এই অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে জোটটি ১০ দলীয় জোট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
পিএ/টিকে